Friday, October 30, 2020
Home ব্যবসা গাইডলাইন কিভাবে ভারতে একটি একক মালিকানাধীন (sole proprietorship) সংস্থা রেজিস্টার করবেন

কিভাবে ভারতে একটি একক মালিকানাধীন (sole proprietorship) সংস্থা রেজিস্টার করবেন

ভারতে একটি একক মালিকানাধীন সংস্থা রেজিস্টার করতে দরকারি ডকুমেন্ট, ফ্রী এবং প্রসেস নিয়ে স্টেপ বাই স্টেপ আমরা এই পোস্টে আলোচনা করবো। ভারতের ব্যবসা রেজিস্টার করার বিভিন্ন ধরনের উপায় আছে। এর মধ্যে জনপ্রিয় হল প্রোপ্রাইটরশিপ, OPC, LLP ও প্রাইভেট লিমিটেড সংস্থা। আপনার ব্যবসায়ের প্রকৃতি এবং গঠনের ভিত্তিতে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে কোন উদ্যোগে রেজিস্টার করা আপনার ব্যবসার পক্ষে উপযুক্ত।

একক মালিকানাধীন সংস্থা কি!

একটি একক মালিকানাধীন সংস্থা হল একপ্রকার কোম্পানি যা একক ব্যক্তি দ্বারা পরিচালিত। সহজভাবে বলতে গেলে একমাত্র মালিকাধীন ব্যক্তি পুরো ব্যবসাটিকে নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রকৃতপক্ষে মালিক এবং ব্যবসাকে একটি একক সত্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এইরকম সংস্থা ভারতের সর্বাধিক জনপ্রিয়। আপনি যদি প্রথমবারের মতো ছোট বা মাঝারি ব্যবসার উদ্যোগ শুরু করেন তাহলে এটি আপনার জন্য একেবারে উপযুক্ত।

একক মালিকানাধীন কোম্পানির সুবিধা

একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের অনেক সুবিধা রয়েছে তবে অসুবিধাও আছে। আপনাকে অবশ্যই কিছু কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখানে আমরা কিছু প্রাথমিক বিবেচনা করছি।

সহজ শুরু

এই ধরনের সংস্থা বা কোম্পানি খোলা অনেক সহজ। পরিচালনা করার জন্য আপনার কাছে কেবলমাত্র বর্তমান ব্যবসায়িক ব্যাংক একাউন্ট থাকা দরকার এবং তারপরে আপনি অন্যান্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারেন।

সহজ অনুবর্তিতা

স্বত্বাধিকারী মালিক হিসেবে আপনাকে আলাদাভাবে ট্যাক্সের ফাইলিং করতে হবে না। আপনি কর্পোরেট হারে ইনকাম ট্যাক্সের পরিবর্তে পৃথক ট্যাক্সের হারে ট্যাক্স প্রদানের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ

এই ধরনের কোম্পানি বা সংস্থার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আপনার হাতে থাকে। আপনাকে কোন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কারো কাছে পরামর্শ বা জিজ্ঞাসা করার দরকার হয় না।

একক মালিকানাধীন সংস্হার অসুবিধা

একক মালিকানাধীন সংস্থার ক্ষেত্রে যে সমস্ত অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়, তার একটি ধারণা দেওয়া হলো:

দায়

এই ধরনের ব্যবসায়িক সত্তায় পুরো প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা আপনাকে নিতে হয়। যদি কোন ভুল হয়ে যায় তার সমস্ত দায়িত্ব আপনার। এমনকি কর্মীদের দ্বারা যেকোনো বেআইনি কাজের জন্য আপনার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। সুতরাং, এটি একক মালিকানাধীন সংস্থার সবচেয়ে বড় অসুবিধা।

অর্থ জোগাড়ে অসুবিধা

কোম্পানির ডেভলপমেন্ট ও সম্প্রসারণের জন্য অন্যান্য কর্পোরেশনের মত অর্থ বিনিয়োগ করতে পারে না। একক মালিকানাধীন সংস্থার ক্ষেত্রে তহবিল সংগ্রহ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

একক মালিকানাধীন সংস্থার রেজিস্ট্রেশন কে কে করতে পারে!

যে কোন ভারতীয় নাগরিক যার বয়স 18 বছরের বেশি সেই এই সংস্হার রেজিষ্ট্রেশনের জন্য অ্যাপ্লিকেশন দিতে পারে। তবে তার অবশ্যই একটি প্যান কার্ড ও বর্তমান ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে। এক্ষেত্রে ROC রেজিস্ট্রেশন লাগেনা। ব্যবসায়িক ভিত্তিতে যে কোন প্রকারে উৎপাদন, পরিষেবা ভিত্তিক বা খুচরো পণ্য বিক্রয় সংস্হা এই ধরনের সংস্থা খুলতে পারেন। এছাড়া সেলফ এমপ্লয়েড বিজনেসও এই সংস্থার আন্ডারে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।

রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া

একক মালিকানাধীন সংস্হা রেজিস্ট্রেশন এর পূর্বে আপনার কাছে নিম্নলিখিত প্রয়োজনীয় নথিগুলি প্রস্তুত থাকতে হবে :

আপনি আপনার কোম্পানির পণ্যের উৎপাদন, পরিষেবা ভিত্তিক বা খুচরো ব্যবসা শুরু না করে আপনার আপনার কোম্পানির নাম নির্বাচন করতে পারেন। যদি আপনি আপনার ব্র্যান্ডের নাম বা সংস্থার নাম সুরক্ষিত করতে চান তাহলে ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন ™ করুন।

আরও পড়ুন: ভারতে কিভাবে একটি অনলাইন ই-কমার্স শপ সেটআপ করা যায়

একক মালিকানাধীন সংস্থার ক্ষেত্রে পৌরসভা বা গ্রাম প্রধান অফিসে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য অ্যাপ্লাই করতে হয়। অ্যাপ্লাই করার সময় ফর্মে আপনার ব্যবসার ঠিকানা অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে, যদি আপনি ভাড়ার বাড়ি থেকে ব্যবসা শুরু করেন তাহলে সেটিও উল্লেখ করবেন। অ্যাপ্লিকেশন জমা দেওয়ার পর পৌরসভা বা গ্রাম প্রধান অফিস থেকে ফর্ম রিসিভের একটি স্বীকৃতি পত্র দেওয়া হবে।

যখন আপনি ট্রেড লাইসেন্স টি হাতে পেয়ে যাবেন তখন একটি কারেন্ট ব্যাংক একাউন্ট এর জন্য আবেদন করুন। আপনার ব্যবসায়ের আকার এবং ব্যবসায়ের প্রকৃতি অনুসারে সাবধানে একটি ব্যাংক নির্বাচন করুন। কারণ একটি কারেন্ট ব্যাংক একাউন্ট খোলার আগে আপনি অন্য কোন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। ব্যাংক একাউন্ট পাওয়ার পরে আপনি অন্যান্য লাইসেন্স যেমন জিএসটি, পরিষেবা কর ইত্যাদির জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারবেন।

রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া চলাকালীন আপনার নিম্নলিখিত নথিগুলির প্রয়োজন হবে:

  • আপনার প্যান কার্ডের জেরক্স।
  • ঠিকানা প্রমাণ যেমন আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, পাসপোর্ট বা ইউটিলিটি বিল।
  • আপনার রিসেন্ট তোলা পাসপোর্ট আকারের ফটোগ্রাফি।
  • আপনার ব্যবসায়ের ঠিকানার প্রমাণ।
  • দোকান বা প্রতিষ্ঠান রেজিস্ট্রেশনের শংসাপত্র (কারেন্ট ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য) ।
  • কারেন্ট ব্যাংক একাউন্টের ছয় মাসের বিবৃতি (জিএসটি এবং পরিষেবা কর রেজিস্ট্রেশন এর জন্য)

প্রয়োজনীয় ফি

ব্যবসায়ের প্রকৃতির উপর নির্ভর করে ভারতে একক মালিকানাধীন সংস্থার রেজিস্ট্রেশন 500 টাকা থেকে শুরু হয়। যদি আপনি রেজিস্ট্রেশন এর কাজ কোন পেশাদার ব্যক্তিকে দিয়ে করান তাহলে তাকে আপনাকে কিছু বাড়তি টাকা দিতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

NEET 2020 result পরীক্ষার ফলাফল – লাইভ আপডেটস

জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা NEET 2020 ফলাফল জানানোর তারিখ ঘোষণা করেছে। NEET 2020 পরীক্ষার ফলাফল সর্বশেষতম সংবাদ অনুযায়ী 12 অক্টোবর বেলা একটায়...

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প

কন্যাশ্রী প্রকল্প | Kanyashree Prakalpa কন্যাশ্রী প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মেয়েদের জীবন ও অবস্থার উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা...

নিজ গৃহ নিজ ভূমি প্রকল্প

বিভাগগুলির নাম: (১) ভূমি ও ভূমি সংস্কার বিভাগ (২) শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ নিজ গৃহ নিজ ভূমি প্রকল্পের...

সুফল বাংলা | Suphal Bangla

বিভাগের নাম: কৃষি বিপণন বিভাগ সুফল বাংলা প্রকল্পের উদ্দেশ্য: সুফল বাংলা প্রকল্পটি ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ থেকে মোবাইল ভ্যানে ঘরে...