Thursday, October 22, 2020
Home কৃষি ব্যবসা কিভাবে পনির উৎপাদনের ব্যবসা শুরু করবেন

কিভাবে পনির উৎপাদনের ব্যবসা শুরু করবেন

পনির এখন একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এর মতো এশিয়া মহাদেশের দেশগুলিতে। যদিও পনিরের চাহিদা আজ সারা বিশ্বে তৈরি হয়েছে। তাই, পনির উৎপাদনের একটি ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তুলে এটিকে একটি ব্যবসার আকার দিতে পারি।

দুধ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পনির তৈরি করা হয়। ভারতের বাজারে দুই ধরনের পনির পাওয়া যায় – তাজা বিক্রির জন্য ও প্যাকেটজাত পনির। তবে, প্যাকেটজাত পনিরের তুলনায় তাজা পনির অনেক ভালো। যে কোনও ব্যক্তি মাঝারি পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ করে একটি পনির উৎপাদন ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এটি একটি খুব সহজ প্রক্রিয়া, আসুন নিচে আমরা এই বিষয়ে আলোকপাত করছি।

পনিরের বাজার সম্ভাবনা

পনির ভারতের সব রাজ্যেই কম বেশি জনপ্রিয়। শিল্পপতিদের মতামত অনুযায়ী খাবারের মধ্যে পনিরের গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। কারণ, দেশের লোক অনেক বেশি করে পনির খাচ্ছে এবং দেশের অভ্যন্তরে যেহেতু সবাই ভ্রমণ করছে তাই এর চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। পনিরের সব থেকে ভালো বাজার হল দক্ষিণ ভারত। আর, ব্যান্ডেড পনিরের প্রায় ৬০% বাজারে সাপ্লাই দেয় আমূল।

পনির হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও খাবার দোকানগুলোতে আপনি সহজেই বিক্রি করতে পারবেন। ভারতে প্রতি বছর পনিরের চাহিদা প্রায় ১৫%-২০% করে বাড়ছে। তাই, যারা নতুন ব্যবসা খোলার পরিকল্পনা করছেন তারা অবশ্যই এই ব্যবসার কথা বিবেচনা করে দেখতে পারেন। আর যদি আপনি অলরেডি দুধের ব্যবসার সাথে জড়িত থাকেন তাহলে পনির ব্যবসা করা আপনার পক্ষে অনেক সহজ হবে।

পনির উৎপাদন প্ল্যান্ট সেট আপ এবং যন্ত্রপাতি

একটি ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তুলতে গেলে প্রথমেই আপনাকে তার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ করতে হবে। আশা করি, ১০০০ বর্গ ফুট জায়গাতে এই পুরো প্ল্যান্টটি আপনি স্হাপন করতে পারবেন। তবে, পনির প্রক্রিয়াকরণের সাথে সাথে আপনাকে তার স্টোর রুম, প্যাকিং ম্যাটেরিয়ালের স্টোর, সমস্ত সামগ্রী সঞ্চয় ও ধোয়ার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে রাখতে হবে। এছাড়াও, আপনাকে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবস্হা ও জল সরবরাহের ব্যবস্থার উপর বিশেষ নজর দিতে হবে। পনির উৎপাদন শিল্পে নামার আগে এই শিল্পের একটি প্রজেক্ট রিপোর্ট রাখবেন।

সাধারণত, বাজারে যে তাজা পনির পাওয়া যায় তা আধা স্বয়ংক্রিয় মেশিনের সাহায্যে তৈরি করে বাজারজাত করা হয়। আপনি যদি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় মেশিনের সাহায্যে এই উৎপাদন প্রক্রিয়া করেন তাহলে একই কোয়ালিটির, বেশিদিন টেকসই, উন্নত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন প্রোডাক্ট পাবেন। এই শিল্পের জন্য কয়েকটি বিশেষভাবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি হল –

  • দুধ সঞ্চয়ের জন্য অ্যালুমিনিয়াম ক্যান
  • স্টেইনলেস স্টিল ট্যাঙ্ক
  • ফিল্টার প্রেস ম্যানুয়াল
  • ডিপ ফ্রিজ
  • ওজন করার যন্ত্র
  • ক্রিম আলাদা করার যন্ত্র
  • স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র
  • পরীক্ষাগার সরঞ্জাম

অবশ্যই পড়ুন : মৌমাছি প্রতিপালন ও মেশিনের সাহায্যে ‘মধু’ প্রক্রিয়াকরণ করে ব্যবসা

কাঁচামাল

পনির উৎপাদনের জন্য প্রধান প্রয়োজনীয় কাঁচামাল হল দুধ ও সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট। দেখা গেছে যে, পনিরের তাড়াতাড়ি নষ্ট হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। রেফ্রিজারেটরে রাখলে এটি ৩ দিন পর্যন্ত সতেজ থাকে। কিন্তু ঘরের তাপমাত্রায় মাত্র ১ দিনেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই পনিরের সতেজতা বৃদ্ধি রাখার জন্য উৎপাদন প্রক্রিয়া, সংযোজন ও গুণগত মানের প্যাকেজিং দরকার।

পনির উৎপাদনের পদ্ধতি

প্রথমে ক্রিম বিভাজকের মাধ্যমে দুধের থেকে সর আলাদা করে দিতে হবে। এরপর সর হীন দুধটি প্রায় ৬০° সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় গরম করতে হবে। এরপর এর সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস বা সাইট্রিক অ্যাসিড যুক্ত করলে দুধটি বিভক্ত হতে শুরু করে। এইভাবে একটি কেক পাওয়া যায়। এরপর কেকটি মসলিন কাপড়ের মধ্যে রেখে ফিল্টার প্রেস মেশিনের সাহায্যে ফিল্টার করুন। এরপর এটিকে ম্যানুয়ালি দরকারি ওজনে কেটে নিতে হবে এবং মোমের কাগজে প্যাকিং করে রেফ্রিজারেটরে স্টোর করুন।

প্যাকেজিং

পনিরের ব্যবহার যোগ্যতা বেশিদিন ধরে রাখতে বা পনিরের নিজস্ব জীবনকাল বাড়াতে প্যাকেজিং এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি সাধারণত পলিথিন পাউচে এর প্যাকিং করতে পারেন তবে এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে এটা যেন তাপ রোধক হয় এবং রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করা হয়।

এছাড়াও ভ্যাকুয়াম প্যাকেজিং করতে পারেন। সরণ প্রলিপ্ত প্যাকেজিং ব্যবহার করতে পারেন (সরণ হল পলিভিনাইলিডিন ক্লোরাইড যা একটি সিন্থেটিক পলিমার)। এটি পনিরের জীবনকাল বাড়িয়ে তোলে। প্রয়োজন অনুসারে আপনাকে অবশ্যই প্যাকেজিং সামগ্রী সংগ্রহ করে রাখতে হবে।

আইনত অনুমতিপত্র

পনির হল গরু বা মহিষের দুধ থেকে প্রাপ্ত একটি পণ্য। দুধের মধ্যে লেবুর রস বা সাইট্রিক অ্যাসিডের সাহায্যে এটি বানানো যায়। PFA(2010) অনুসারে এর মধ্যে ৭০% এর বেশি আদ্রতা থাকা চলবে না এবং ৫০% এর কম এর মধ্যে ফ্যাট থাকবে না। পনির তৈরি করতে দুধের সলিউডও ব্যবহার করা যেতে পারে।

পনির উৎপাদনের ব্যবসায় PFA আইন মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে সেই রাজ্যের ব্যবসা করার যে নিয়ম আছে, তা একবার দেখে নেওয়া উচিত। তবে প্রাথমিকভাবে যে সমস্ত আইনত অনুমতিপত্র দরকার হয়, তা হল –

  • প্রথমত আপনার ব্যবসা ROC ( Register Of Companies) এর সাথে রেজিস্টার করতে হবে।
  • লোকাল পঞ্চায়েত বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে।
  • MSME উদ্যোগ আধারে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
  • FSSAI এ রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
  • BIS থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে।

Source : Internet

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

NEET 2020 result পরীক্ষার ফলাফল – লাইভ আপডেটস

জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা NEET 2020 ফলাফল জানানোর তারিখ ঘোষণা করেছে। NEET 2020 পরীক্ষার ফলাফল সর্বশেষতম সংবাদ অনুযায়ী 12 অক্টোবর বেলা একটায়...

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প

কন্যাশ্রী প্রকল্প | Kanyashree Prakalpa কন্যাশ্রী প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মেয়েদের জীবন ও অবস্থার উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা...

নিজ গৃহ নিজ ভূমি প্রকল্প

বিভাগগুলির নাম: (১) ভূমি ও ভূমি সংস্কার বিভাগ (২) শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ নিজ গৃহ নিজ ভূমি প্রকল্পের...

সুফল বাংলা | Suphal Bangla

বিভাগের নাম: কৃষি বিপণন বিভাগ সুফল বাংলা প্রকল্পের উদ্দেশ্য: সুফল বাংলা প্রকল্পটি ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ থেকে মোবাইল ভ্যানে ঘরে...