Thursday, October 22, 2020
Home ছোট ব্যবসা কিভাবে 'প্লাস্টিক টুথপিক' বানানোর ব্যবসা শুরু করবেন

কিভাবে ‘প্লাস্টিক টুথপিক’ বানানোর ব্যবসা শুরু করবেন

আজকের দিনে প্লাস্টিক টুথপিক বানিয়ে একটি ভালো ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারি। আগেকার দিনে মানুষ দাঁত খোঁচানোর জন্য কাঠের টুথপিক ব্যবহার করতো এবং এখনো ধারাবাহিকভাবে কোথাও কোথাও এটার ব্যবহার হচ্ছে। কিন্তু বাজারে প্লাস্টিকের টুথপিক আসার পর এর মার্কেট দিনের পর দিন ব্যাপকভাবে বাড়ছে। তার কারণ হলো প্লাস্টিকের টুথপিক কাঠের থেকে অনেক বেশি নমনীয় ও স্বাস্থ্যকর ভাবে প্যাকিং অবস্থায় পাওয়া যায়।

এই প্লাস্টিক টুথপিক গুলির চাহিদা হোটেল ও রেস্টুরেন্ট গুলিতে ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা যায়। যেহেতু এগুলি ডিসপোজেবল তাই ভ্রমণের সময় মানুষ টুথপিক সাথে করে রাখে।

আপনি এই ব্যবসাটি নিজের বাড়ি থেকেও শুরু করতে পারেন এবং এটি আপনাকে মাসের শেষে ভাল রোজগার এনে দিতে পারে। এই ব্যবসাটি আপনি আধা-স্বয়ংক্রিয় ও সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় যে কোনো প্রকার মেশিনের সাহায্যেই করতে পারেন।

প্লাস্টিক টুথপিক এর বাজার সম্ভাবনা

যেহেতু প্লাস্টিক টুথপিকের ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে, তাই এর চাহিদা মার্কেটে সব দিনই থাকবে। বিশেষ করে হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পাবলিক জমায়েত যেখানে খাবার বিতরণ করা হয় সেখানে এই টুথপিক এর ব্যবহার ঐতিহ্যবাহী।

প্লাস্টিকের টুথপিকের বাজার প্রতিবছর প্রায় 4 পারসেন্ট হারে বেড়ে চলেছে। আমাদের দেশের বাজার ছাড়াও বিদেশে রপ্তানি করে আপনি খুব ভালো রোজার করতে পারেন। তবে যদি আপনি বিদেশে রপ্তানির জন্য প্লাস্টিক টুথপিকের উৎপাদন ইউনিট শুরু করতে চান, তার জন্য আপনাকে পণ্যের গুণমান বজায় রাখতে হবে।

লাইসেন্স

আপনি ভারতে ছোট-বড়-মাঝারি যে কোন ব্যবসায় খুলতে চান না কেন তার জন্য আপনাকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেওয়া খুবই জরুরী। সাধারণত ব্যবসা স্থাপন করার জন্য নিম্নলিখিত লাইসেন্স গুলির প্রয়োজন পড়ে।

  • প্রথমে আপনার ব্যবসাটি ROC তে রেজিস্টার করুন। যদি আপনি ব্যবসাটি ছোট স্কেলে খুলতে চান তাহলে one person company registration করবেন । আর যদি বড় করে খুলতে চান তাহলে LLP, PVT LTD ও LTD Company এর লাইসেন্স নিতে পারেন।
  • পলিউশন কন্ট্রোল বোর্ড থেকে NOC সার্টিফিকেট নিতে হবে।
  • VAT রেজিস্ট্রেশন এর জন্য অ্যাপ্লাই করতে হবে।
  • ISO সার্টিফিকেটের জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারেন।
  • লোকাল পঞ্চায়েত অফিস বা মিউনিসিপ্যালিটি কর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে।
  • উদ্যোগ আধার MSME তে আপনার কোম্পানি বা ব্যবসার রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।
  • যদি আপনি আপনার উৎপাদন পণ্যটি বিদেশে রপ্তানি করতে চান তাহলে IEC Code নিতে হবে।

প্রয়োজনীয় মেশিন ও কাঁচামাল

এই ধরনের পণ্য উৎপাদনের জন্য স্বয়ংক্রিয় মেশিনের ব্যবহার করা হয়। কারণ স্বয়ংক্রিয় মেশিন নির্ভুলভাবে একই সাইজের ও গঠনের প্রতিটি পণ্য নির্মাণ করতে সম্ভব। এছাড়াও স্বয়ংক্রিয় মেশিন খুব কম সময়ে উচ্চ উৎপাদনের হার নিশ্চিত করে।

একটি প্লাস্টিক টুথপিক উৎপাদন ইউনিট গঠন করতে যে সমস্ত মেশিনারি ও আনুষঙ্গিক দ্রব্যের প্রয়োজন, মোটামুটি হবে তা আমরা নিচে বর্ণনা করছি।

  • অ্যাসেসরিজ সহ স্বয়ংক্রিয় ইনজেকশন মোল্ডিং মেশিন।
  • স্ক্রাপ গ্রাইন্ডিং মেশিন
  • শুকনো রং মেশানোর মেশিন
  • মোল্ড লিফটিং মেশিন
  • ওয়াটার কুলিং এর ব্যবস্থা
  • ওজন মেশিন
  • বিভিন্ন আকারের মোল্ড
  • প্যাকিং মেশিন

প্লাস্টিকের দ্রব্য উৎপাদন করতে গেলে প্রধানত পিপি /এইচডিপিই উপাদানের প্রয়োজন হয়। আপনি এটি পাইকারি দরে স্থানীয় বাজার থেকে বা প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে কিনতে পারেন। এছাড়াও আপনাকে মাস্টার ব্যাচ ও রং কিনতে হবে। প্যাকিং করার জন্য আপনাকে প্রয়োজনীয় প্যাকিং উপকরণ সংগ্রহ করে রাখতে হবে।

প্লাস্টিক টুথপিক তৈরির পদ্ধতি

স্বয়ংক্রিয় ইনজেকশন মোল্ডিং মেশিনের হোল্ডারে থার্মোপ্লাস্টিক ও হোমোজেনাইজড উপাদান ঢেলে দিতে হবে। এরপর স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ওই থার্মোপ্লাস্টিক উপাদান মেশিনের হিটারে গলে গিয়ে নির্দিষ্ট মোল্ডে প্রবেশ করে। এরপর মোল্ডের আকার অনুযায়ী ওই তরল প্লাস্টিক উপাদানটি সেই আকার ধারণ করে। এরপর তৈরি হওয়া ওই প্লাস্টিক পণ্যটি কুলিং পদ্ধতিতে ঠান্ডা করতে হবে। অনেক সময় মেশিনে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ও পণ্যটি ঠান্ডা হয়ে যায়। বিভিন্ন আকারের প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার করা যেতে পারে।

বিভিন্ন রঙের প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনের জন্য থার্মোপ্লাস্টিক উপাদানের সাথে পরিমাণ অনুযায়ী মাস্টার ব্যাচ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও প্লাস্টিক পণ্য রং করার জন্য আলাদাভাবে রং পাওয়া যায় সেটির সাহায্যে উৎপাদিত পণ্য টি রং করা যেতে পারে।

স্ক্রাপ গ্রাইন্ডিং মেশিনের সাহায্যে প্লাস্টিকের উপাদান রিসাইকেল করা যায়। ব্যবহৃত প্লাস্টিকের উপাদান স্ক্রাপ গ্রাইন্ডিং মেশিনের সাহায্যে গুঁড়িয়ে টুকরো টুকরো করা হয়।

এরপর উৎপাদিত পণ্যটি ম্যানুয়ালি বা স্বয়ংক্রিয় প্যাকিং মেশিনের সাহায্যে প্যাকিং করা হয়। এরপর আপনি আপনার নিজের কোম্পানির লোগো যুক্ত কার্টুনে ভরে বাজারে সাপ্লাই করতে পারবেন।

পরিকল্পনা

যে কোন ব্যবসা শুরু করার জন্য যে টাকা দরকার হয় তা দুই ভাগে ভাগ করা যায় – ফিক্সড ক্যাপিটাল ও ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল। ফিক্সড ক্যাপিটাল মানে হলো আপনার ব্যবসা শুরু করতে বা স্হাপন করতে যে টাকা দরকার হয়। যেমন জায়গা কেনা, মেশিনারি দব্য কেনা, বিল্ডিং, সেটআপ কস্ট ইত্যাদি।

ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হলো ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য আপনার যে টাকার দরকার হয়। যেমন কাঁচামাল কেনার টাকা লেবারের পেমেন্ট এবং অন্যান্য নিত্যদিনের খরচ।

যদি আপনার কাছে ব্যবসা সেটআপ করার জন্য টাকা না থাকে তাহলে আপনি নিকটবর্তী ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারেন। ব্যাংক থেকে লোন নেয়ার সময় অন্যান্য ব্যাংকের সুদের হার তুলনা করে নেবেন। এর জন্য আপনি মুদ্রা লোন এর জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারেন, এছাড়াও এম এস এম ই স্কিমের মাধ্যমে লোন অ্যাপ্লাই করতে পারেন।

Source : Internet

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

NEET 2020 result পরীক্ষার ফলাফল – লাইভ আপডেটস

জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা NEET 2020 ফলাফল জানানোর তারিখ ঘোষণা করেছে। NEET 2020 পরীক্ষার ফলাফল সর্বশেষতম সংবাদ অনুযায়ী 12 অক্টোবর বেলা একটায়...

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প

কন্যাশ্রী প্রকল্প | Kanyashree Prakalpa কন্যাশ্রী প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের মেয়েদের জীবন ও অবস্থার উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দ্বারা...

নিজ গৃহ নিজ ভূমি প্রকল্প

বিভাগগুলির নাম: (১) ভূমি ও ভূমি সংস্কার বিভাগ (২) শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ নিজ গৃহ নিজ ভূমি প্রকল্পের...

সুফল বাংলা | Suphal Bangla

বিভাগের নাম: কৃষি বিপণন বিভাগ সুফল বাংলা প্রকল্পের উদ্দেশ্য: সুফল বাংলা প্রকল্পটি ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৪ থেকে মোবাইল ভ্যানে ঘরে...